
হাফলং (অসম), ১৪ আগস্ট (হি.স.): দেশভাগের ভয়াবহ স্মৃতি, সেই সময়ের অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, দুর্ভোগ, প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির বেদনাময় ইতিহাস স্মরণ করে শুক্রবার হাফলংয়ে পালিত হল ‘পার্টিশন হররস রিমেমব্রেন্স ডে’ বা দেশভাগের ভয়াবহতা স্মরণ দিবস। এই উপলক্ষে হাফলংয়ে আয়োজিত বিশেষ পদযাত্রায় অংশ নেন উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের অধ্যক্ষ মোহিত হোজাই-সহ পরিষদের বিভিন্ন সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। লাল ফিল্ড থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রাটি হাফলং শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে জয়া থাওসেনের মূর্তির কাছে গিয়ে শেষ হয়। পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা দেশভাগের সময় প্রাণ হারানো অগণিত মানুষ এবং ঘরবাড়ি, স্বজন ও সম্পদ হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হওয়া মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিকল্পনা বোর্ডের অধ্যক্ষ তথা উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য দনপাইনন থাওসেন, প্রবিতা জহরি, অতিরিক্ত জেলা কমিশনার এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের নাগরিকরা। তাঁদের উপস্থিতিতে কর্মসূচিটি বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষকে তাঁদের দীর্ঘদিনের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছিল। দেশভাগকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হিংসা, প্রাণহানি, সম্পত্তি ধ্বংস, উদ্বাস্তু সমস্যা এবং পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো অসংখ্য বেদনাদায়ক ঘটনা ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। সেই ভয়াবহ অধ্যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ত্যাগ ও দুর্ভোগের কথা স্মরণ করতেই প্রতিবছর দেশভাগের ভয়াবহতা স্মরণ দিবস পালন করা হয়। পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দেশভাগের ইতিহাস স্মরণ করার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র অতীতের বেদনা পুনরুজ্জীবিত করা নয়। বরং সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি, ঐক্য ও পারস্পরিক সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই দিবস পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়। লাল ফিল্ড থেকে জয়া থাওসেনের মূর্তি পর্যন্ত আয়োজিত এই পদযাত্রায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন বয়সের মানুষ এতে সামিল হয়ে দেশভাগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রাণ হারানো মানুষদের স্মরণ করেন।
বক্তারা বলেন, ইতিহাসকে ভুলে গেলে অতীতের ভুল ও তার ভয়াবহ পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। তাই দেশভাগের ভয়াবহতার স্মৃতি সংরক্ষণ এবং সেই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। দেশভাগের বেদনাদায়ক অধ্যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবিকতা, সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও ঐক্যের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে—এই বার্তাই এদিনের পদযাত্রায় তুলে ধরা হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব