সরকারের ১০০ দিনের সাফল্য তুলে ধরে সরব সজল ঘোষ, কলকাতা পুরসভা নিয়েও নিশানা
গড়িয়া, ১৮ আগস্ট (হি. স.): রাজ্য সরকারের ১০০ দিনের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। গড়িয়ায় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের প্রশংসার পাশাপাশি বিরোধীদেরও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। মঙ্গলবারের এই সাং
সরকারের ১০০ দিনের সাফল্য তুলে ধরে সরব সজল ঘোষ, কলকাতা পুরসভা নিয়েও নিশানা


গড়িয়া, ১৮ আগস্ট (হি. স.): রাজ্য সরকারের ১০০ দিনের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। গড়িয়ায় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের প্রশংসার পাশাপাশি বিরোধীদেরও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।

মঙ্গলবারের এই সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারের ১০০ দিনের একাধিক কাজের কথাও তুলে ধরেন সজল ঘোষ। তাঁর দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, কলকাতায় আটকে থাকা মেট্রো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং জনগণনার কাজও শুরু হয়েছে। আয়ুষ্মান প্রকল্প চালুর পাশাপাশি যাঁরা এর আওতায় আসবেন না, তাঁদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প চালু হয়েছে বলে জানান তিনি।

সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময়সীমা, কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ডিলিমিটেশন এবং রাজস্ব বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন তিনি। শহরাঞ্চলে বেআইনি নির্মাণ রুখতে কড়া পদক্ষেপ, তোলাবাজি ও মস্তানি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন সজল ঘোষ। তাঁর কথায়, বিজেপি কর্মী হলেও অন্যায় করলে ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না সরকার। পাশাপাশি গত ১০০ দিনে এক হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হয়েছে এবং মহিলাদের নিরাপত্তাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সরকারের ১০০ দিনের কাজের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দেন এই বিজেপি নেতা। কলকাতা পুরসভা প্রসঙ্গে সজল ঘোষ বলেন, “প্রশাসক বসিয়ে দীর্ঘদিন পুরসভা চালানো সম্ভব নয়।” আগের পুরবোর্ডের ব্যর্থতার কারণেই একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বাড়ি ভেঙে মানুষের মৃত্যুর জন্য আগের পুরবোর্ডকেই দায়ী করেন এই বিজেপি নেতা।

আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিবিআই তদন্তের দাবি প্রসঙ্গে সজল ঘোষের কটাক্ষ, “মমতার সুমতি হয়েছে। ফেঁসে গেলে পরে চক্রান্ত বলবেন না তো?” একইসঙ্গে মনোজ টিগ্গা ও মধুছন্দা করকে জাতীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০২৯ সালের নির্বাচনকে মাথায় রেখে নয়, দেশ ও বাংলার মানুষের কথা ভেবেই তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

‘ককরোচ পার্টি’ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যকে সমর্থন করে সজল ঘোষ বলেন, “রাজনৈতিকভাবে ‘আরশোলা, ছাড়পোকা’ মেরে দেওয়া হবে।” জেন আলফা প্রসঙ্গে অবশ্য তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর বিশেষ ধারণা নেই। তবে গত ১৫ বছরে কোনও কলেজে ছাত্রভোট হয়নি এবং ছাত্ররা আন্দোলন করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হালিশহরের আইসি-কে সাসপেন্ড করার প্রসঙ্গেও এদিন মুখ খোলেন সজল ঘোষ। তিনি বলেন, “তদন্তের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের ১০০ দিনে কোনও মৃত্যু ঘটেনি। তারাপীঠের সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়েও তিনি বলেন, এতদিন সেখানে যথাযথ নজরদারি ছিল না। পুণ্য অর্জন করতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এছাড়া মসজিদের মাইক নিয়ে জনস্বার্থ মামলার প্রসঙ্গে সজল ঘোষ বলেন, “তিন কিলোমিটার দূর থেকেও শব্দ শোনা যেত, যার ফলে অসুস্থ মানুষ ও শিশুদের সমস্যা হত।” তবে মন্দিরেও একইভাবে উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার করা উচিত নয় বলে জানান তিনি।

কীর্তি আজাদের আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন সজল ঘোষ। অন্যদিকে শওকত মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। সাবিনা ইয়াসমিনের স্বামীর বিরুদ্ধে এনআইএ তদন্তের প্রসঙ্গেও গ্রেফতারের দাবি তোলেন বিজেপি নেতা।

হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা




 

 rajesh pande