
হাফলঙে সিইএম দেবলাল গার্লোসার সাংবাদিক সম্মেলন
হাফলং (অসম), ২ আগস্ট (হি.স.) : ডিমাসা সমাজের ভাষা, সংস্কৃতি, সাংবিধানিক অধিকার এবং সামগ্রিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একাধিক নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করলেন উত্তর কাছাড় স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য (সিইএম) দেবোলাল গার্লোসা। শনিবার হাফলঙে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, আগামী দিনে ডিমাসা সমাজকে আরও সংগঠিত, শিক্ষিত ও স্বনির্ভর করে তুলতে পরিষদ ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।
গার্লোসা বলেন, ডিমাসা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলাই এখন পরিষদের অন্যতম লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে প্রতি মাসে একদিন সরকারি কর্মকর্তা, পরিষদের সদস্য এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে ডিমাসা ভাষা, সংস্কৃতি ও শিক্ষা সম্পর্কে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করবেন। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে একদিন ডিমাসা জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্য নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
সিইএম বলেন, অসম সরকার ডিমা হাসাও জেলার সরকারি দাপ্তরিক কাজে ইংরেজির পাশাপাশি ডিমাসা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এ জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তিনি জানান, বর্তমানে চতুর্থ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ডিমাসা ভাষার পাঠ্যপুস্তক চালু হয়েছে এবং নবম ও দশম শ্রেণিতে মাতৃভাষা হিসেবে ডিমাসা ভাষা পড়ানো হচ্ছে।
দেবোলাল আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক যোগাযোগ, যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে ডিমা হাসাও জেলায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিভিন্ন সরকারি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিষদ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ডিমাসা সমাজের বিভিন্ন সংগঠন, প্রবীণ নাগরিক, বুদ্ধিজীবী এবং যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজের স্বার্থে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সকলের সহযোগিতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে ডিমাসা সমাজকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে গার্লোসা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পরিষদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সংবিধান, আইন এবং জনস্বার্থের ভিত্তিতেই গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, ডিমা হাসাও জেলার শান্তি, সম্প্রীতি এবং সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন বজায় রাখাই পরিষদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং সব সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্প্রীতি অটুট রেখে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও ঘোষণা করেন, ডিমাসা রাজ্যের ৪৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আগামী ১২ আগস্ট মাইবঙে এক বৃহৎ স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ষোড়শ শতকের পূর্বে ডিমাপুর এবং পরবর্তীকালে মাইবাং খাসপুর ছিল ডিমাসা রাজাদের শাসনকেন্দ্র। মাইবাঙের ডিমাসা রাজবাড়ির ফলকে ডিমাসা রাজত্বের ৪৫০ বছরের ইতিহাস উল্লেখ রয়েছে। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সামনে রেখেই এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে ডিমাসা সমাজের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ, সাংবিধানিক অধিকার এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন দেবোলাল গার্লোসা।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব