
হাফলং (অসম), ২ আগস্ট (হি.স.) : লামডিং-বদরপুর পাহাড়ি রেলপথের নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশন সংলগ্ন ধস-বিধ্বস্ত এলাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। স্টেশনের ১ নম্বর ও ২ নম্বর লাইনের প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে রেললাইনের নীচ থেকে মাটি ও পাথর ধসে পড়ায় গত ১২ দিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি রেলপথে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেল (এনএফ রেল) কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।
রেল সূত্রে জানা গেছে, ধসের ফলে ১ নম্বর ও ২ নম্বর লাইন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সীমিত পরিসরে রেল চলাচল পরিচালনা করা হলেও স্বাভাবিক পরিষেবা এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতির কারণে একাধিক যাত্রীবাহী ট্রেন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি দূরপাল্লার বিভিন্ন ট্রেনের সময়সূচি পরিবর্তন করে চলাচল করানো হচ্ছে, যার ফলে যাত্রীদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ধস-বিধ্বস্ত অংশে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ। ১ নম্বর লাইনের নীচে মাটি ও পাথর ভরাট করে রেলপথ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও রবিবার ফের ভারী বৃষ্টির জেরে নতুন করে ধস নামে। ফলে সদ্য ভরাট করা মাটির বড় অংশ আবার ধসে পড়ে এবং মেরামতির কাজ অনেকটাই পিছিয়ে যায়।
রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, পাহাড়ি অঞ্চলে টানা বর্ষণ এবং নরম হয়ে যাওয়া মাটির কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করতে গিয়েও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একদিকে ধস সরানো, অন্যদিকে পুনরায় মাটি ভরাট ও রেললাইনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা - এই দুদিক সামলাতে প্রকৌশলীদের কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে।
এদিকে, প্রতিদিনের মতো বহু যাত্রী এই পাহাড়ি রেলপথের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় ট্রেন বাতিল ও সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসূত্রে যাতায়াতকারী মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে এলেই দ্রুত মেরামতির কাজ সম্পন্ন করে ১ ও ২ নম্বর লাইনে স্বাভাবিক রেল চলাচল পুনরায় চালু করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। তবে টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় ঠিক কবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে নিউ হারাঙ্গাজাও সংলগ্ন ধস-বিধ্বস্ত এলাকা উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের কাছে অন্যতম বড় প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব