
ঝাড়্গ্রাম, ২৩ আগষ্ট ( হি: স): জঙ্গলমহলের জঙ্গলে হাতির দলে নতুন অতিথির আগমন। শাবক সহ হাতির একটি দলকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঝাড়গ্রামের লোধাশুলি ও মানিকপাড়া রেঞ্জের ভাওদা ও নুনিয়াকুন্দি এলাকায়। শনিবার রাতে প্রায় ২৪ ২৫ টি হাতির একটি দল এলাকায় ঢুকে ধানজমিতে তান্ডব চালিয়ে ব্যাপকভাবে ক্ষয়ক্ষতি করার পর সকালে দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায়। তারই একটি দলে দেখা যায় সদ্যোজাত হস্তিশাবকের। শাবকটির সঙ্গে রয়েছে তার মা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে কলসিভাঙা, ভাওদা ও নুনিয়াকুন্দি এলাকার ধানজমিতে ঢুকে ধান খেয়ে, পায়ে মাড়িয়ে তছনছ করে হাতির দলটি। রাতভর ধান খাওয়ার পর এদিন রবিবার সকালে জঙ্গলে ফেরার সময় হাতিগুলি দু’টি দলে ভাগ হয়ে যায়। একটি দলে ১৭ থেকে ১৮ টি হাতি ভাগ হয়ে ভাওদার জঙ্গলের দিকে চলে যায়। অন্যদিকে ৭ থেকে ৮ টি হাতির আর একটি দল ঢুকে পড়ে নুনিয়াকুন্দির বাগান এলাকায় প্রবেশ করে। এই দলটির মধ্যেই রয়েছে নতুন অতিথি বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে। শাবকটি এখনও মায়ের সঙ্গেই রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তার নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক বন দফতর। শাবককে ঘিরে হাতির দলটি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই হাতির কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য গ্রামবাসীদের সতর্ক করা হয়েছে। শাবক সহ হাতির দলটি বর্তমানে নুনিয়াকুন্দির বাগান এলাকায় থাকায় আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। হাতির দলটি যে কোনও সময় খাবারের সন্ধানে ফের লোকালয়ের দিকে চলে আসতে পারে আশঙ্কা বাসিন্দাদের। তাই ভাওদা, নুনিয়াকুন্দি, কলসিভাঙা সহ পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করে মাইকিং করছেন বনকর্মীরা। বন দফতরের পক্ষ থেকে হাতির দল দেখতে ভিড় না করা এবং কোনওভাবেই তাদের উত্ত্যক্ত না করার আবেদন জানানো হয়েছে।
একদিকে সদ্যোজাত হস্তিশাবকের আগমনে জঙ্গলমহলের প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের বার্তা, অন্যদিকে শাবককে ঘিরে হাতির দলের গতিবিধি নিয়ে বাড়ছে সতর্কতা। পাশাপাশি মা ও শাবক সহ হাতির দলটি নিরাপদে যাতে জঙ্গলের গভীরে ফিরে যায় সেদিকে নজর রাখছেন বনকর্মীরা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো