প্রয়াত হলেন ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ার বিশিষ্ট সন্ন্যাসী ও সমাজসেবী স্বামী ভবানন্দ
ঝাড়্গ্রাম, ২৩ আগষ্ট ( হি. স.): প্রয়াত হলেন ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ার বিশিষ্ট সন্ন্যাসী ও সমাজসেবী স্বামী ভবানন্দ। শনিবার বিকেলে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ১০৩ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানিকপাড়া-সহ জঙ্গল
প্রয়াত হলেন ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ার বিশিষ্ট সন্ন্যাসী ও সমাজসেবী স্বামী ভবানন্দ


ঝাড়্গ্রাম, ২৩ আগষ্ট ( হি. স.): প্রয়াত হলেন ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ার বিশিষ্ট সন্ন্যাসী ও সমাজসেবী স্বামী ভবানন্দ। শনিবার বিকেলে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ১০৩ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানিকপাড়া-সহ জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রবিবার ভোরে তাঁর মরদেহ মানিকপাড়ায় পৌঁছয়। পরে মরদেহ নিয়ে শোকযাত্রা গোটা মানিকপাড়া এলাকা পরিক্রমা করে। শ্রীরামকৃষ্ণ সেবাশ্রম প্রাঙ্গণে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় তাঁর। ১৯২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর জেলার মাদারিপুরে জন্ম স্বামী ভবানন্দের।পূর্বাশ্রমের নাম ছিল সুনীল দত্ত। পঞ্চাশের দশকের গোড়ায় বেলুড় রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের ষষ্ঠ সঙ্ঘাধ্যক্ষ স্বামী বিরজানন্দের কাছে দীক্ষা নেন তিনি। ১৯৫৫ সালে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে যোগ দিয়ে ব্রহ্মচারী জীবন শুরু করেন।পরবর্তীকালে স্বামী বিবেকানন্দের ‘শিবজ্ঞানে জীবসেবা’র আদর্শকে সামনে রেখে মানুষের সেবাকেই জীবনের প্রধান ব্রত করে নেন। ষাটের দশক থেকেই কুষ্ঠরোগীদের সেবায় যুক্ত হন তিনি। পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন কাজ করার পর ১৯৬৯ সালে মানিকপাড়ায় এসে প্রতিষ্ঠা করেন শ্রীরামকৃষ্ণ সেবাশ্রম। লোধা-শবর ও আদিবাসী মানুষের উন্নয়ন, কুষ্ঠরোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন, শিক্ষা এবং গ্রামীণ উন্নয়নে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর উদ্যোগেই মানিকপাড়ায় গড়ে ওঠে রামকৃষ্ণ বাজার ও বিবেকানন্দ শিশু বিদ্যাভবন। দীর্ঘ কর্মজীবনে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বহু মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। শুধু ঝাড়গ্রাম নয়, দেশ-বিদেশেও ছড়িয়ে ছিল তাঁর অসংখ্য অনুরাগী। তাঁর প্রয়াণে দীর্ঘদিনের এক সমাজসেবামূলক অধ্যায়ের অবসান হল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande