
বাঁকুড়া, ৫ আগস্ট (হি. স.): লালচন্দনের পায়ের ছাপে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপস্থিতি অনুভব করে বিষ্ণুপুরের মাধবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দারা মেতে উঠেছেন ভক্তি ও আনন্দে।
বিষ্ণুপুরবাসীর এই কৃষ্ণভক্তির নেপথ্যে রয়েছে এক অলৌকিক ঘটনার দাবি। বিষ্ণুপুর শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মাধবগঞ্জ এলাকায় রাধামদন গোপাল জিউ মন্দির সংলগ্ন কয়েকশো বছরের পুরনো একটি বকুলগাছ সম্প্রতি শুকিয়ে যায়। গাছটির মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যে আক্ষেপ ছিল। মল্লরাজাদের প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন মন্দিরকে ঘিরে আজও মানুষের গভীর আবেগ রয়েছে।
মন্দির সংলগ্ন ওই বকুলগাছের চারপাশে বাঁধানো সাদা রঙের বেদিটি প্রতিদিন পরিষ্কার করা হয়। সেখানে ভক্তরা প্রণাম করেন এবং নিয়মিত নামসংকীর্তন হয়। সকালে সেই বেদির উপর একাধিক লালচন্দনের পায়ের ছাপ দেখতে পান ভক্তরা। অন্যান্য দিনের মতো বুধবারও সকালে নামসংকীর্তনে এসে তাঁরা এই দৃশ্য দেখে বিস্মিত হয়ে পড়েন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকে ফুল নিয়ে এসে প্রণাম জানান, কেউ আবার মোবাইলে ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এরপর থেকেই মন্দির ও বেদিকে ঘিরে ভিড় বাড়তে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, গভীর রাতে ওই বকুলগাছের তলায় শ্রীকৃষ্ণ সখীদের নিয়ে লীলা করতেন। তাই লালচন্দনের এই পায়ের ছাপ তাঁদের সেই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিষ্ণুপুর শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সেখানে ভিড় জমান। বাসিন্দাদের দাবি, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পায়ের ছাপগুলি ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। ভক্তরা নতজানু হয়ে প্রণাম করছেন, কেউ আবার বেদির ধুলো গায়ে মেখে ভক্তি নিবেদন করছেন। তবে ওই পায়ের ছাপ আদতে কার, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, ইতিহাস অনুসারে ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে মল্লরাজাদের আমলে রানি শিরোমণি দেবীর উদ্যোগে মাধবগঞ্জে পাথরের পাঁচচূড়া এই মন্দির নির্মিত হয়। সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হন শ্রীশ্রী রাধামদন গোপাল ঠাকুর জিউ। সেই সময় থেকেই এই মন্দিরকে ঘিরে জেলার মানুষের বিশেষ ধর্মীয় আবেগ গড়ে উঠেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট