
লখনউ, ১৫ সেপ্টেম্বর (হি.স.): আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তর প্রদেশে দরিদ্র ও প্রয়োজনীয় পরিবারগুলির উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ ক্রমশ বাড়ছে। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত রেকর্ড ৫ কোটি ৯৯ লক্ষ আয়ুষ্মান কার্ড তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় থাকা ৬,৪৯৭টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলি ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ৯৭.৭৫ লক্ষের বেশি রোগীর বিনামূল্যে চিকিৎসা হয়েছে। এই প্রকল্পে সরকার এখনও পর্যন্ত ১৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ করেছে।
আয়ুষ্মান ভারত (সাচীজ)-এর রাজ্য নোডাল আধিকারিক ড. মনোজ শ্রীবাস্তব হিন্দুস্থান সমাচারকে জানান, এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৯৭.৭৫ লক্ষের বেশি রোগীর সফলভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই হৃদরোগ, কিডনি এবং স্নায়ু সংক্রান্ত গুরুতর রোগে আক্রান্ত ছিলেন। প্রকল্পের আওতায় সরকার এখনও পর্যন্ত ১৬ হাজার ২১৪ কোটি টাকার বেশি খরচ করেছে। রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার পরিবর্তে এই অর্থ সরাসরি হাসপাতালগুলিকে দেওয়া হয়েছে।
সরকার শিক্ষক থেকে শুরু করে পিআরডি জওয়ান, আইনজীবী, রাঁধুনি এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের পরিবার পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার আওতায় আনার ঘোষণা করেছে। মহাবিদ্যালয়, স্বনির্ভর পাঠ্যক্রম এবং স্বনির্ভর মহাবিদ্যালয়ে কর্মরত ১.২৮ লক্ষের বেশি শিক্ষক ও তাঁদের নির্ভরশীল পরিবারকে মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষক ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি উত্তর প্রদেশ সরকার প্রাদেশিক রক্ষী দল বা পিআরডির ৩১ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক এবং তাঁদের পরিবারকেও বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা করেছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা এবং তাঁদের পরিবারকেও বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিষদীয় বিদ্যালয়ে পিএম পোষণ প্রকল্পের আওতায় শিশুদের জন্য খাবার তৈরি করা রাঁধুনিদেরও ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধার আওতায় আনা হবে।
সংযুক্ত জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন কর্মী সংঘের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক যোগেশ উপাধ্যায় বলেন, উত্তর প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পিআরডি জওয়ান, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, আইনজীবী এবং শিক্ষকদের ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ুষ্মান স্বাস্থ্যবিমার সুরক্ষা দেওয়া প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তিনি আরও বলেন, এনএইচএমের ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২.২৫ লক্ষ আশা কর্মীকেও এই প্রকল্পের আওতায় আনা উচিত। যাঁরা অন্যদের চিকিৎসা করেন, তাঁদেরও স্বাস্থ্য সুরক্ষার অধিকার রয়েছে।
এ ছাড়া পিএম স্বনিধি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের আয়ুষ্মান ভারত—প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। এর জন্য রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ফুটপাতের ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের চিহ্নিত করা হবে। রাজ্যজুড়ে ৭৮ লক্ষের বেশি সুবিধাভোগীকে কোনও জামানত ছাড়াই কার্যকরী মূলধনের ঋণ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য নগর উন্নয়ন সংস্থা (সুডা)-র অধিকর্তা মহেন্দ্র বাহাদুর সিং জেলাশাসক এবং জেলা নগর উন্নয়ন সংস্থাগুলিকে পোর্টালে তথ্য আপলোড করার নির্দেশ দিয়েছেন।
১৪ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকার আইনজীবীদের জন্যও ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা করেছে। লখনউ হাই কোর্টের আইনজীবী অমর বাহাদুর মৌর্য বলেন, আইনজীবীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এই প্রকল্প পেশাগত জীবনে সংগ্রামরত আইনজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
জৌনপুরের বাসিন্দা ৪১ বছরের ধর্মেন্দ্র কুমার জানান, তাঁর কাছে আয়ুষ্মান কার্ড না থাকলে চিকিৎসা করানো সম্ভব হত না। সম্প্রতি লখনউয়ের সঞ্জয় গান্ধী আয়ুর্বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানেই তাঁর হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার হয়েছে। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ।
লখনউয়ের সিভিল হাসপাতালের আয়ুষ্মান ওয়ার্ডে ভর্তি ৭৬ বছরের শুশীলা জানান, তাঁর হাতে চোট লেগে হাড় ভেঙে গিয়েছিল। হাতে প্লেট বসানো হয়েছে। আয়ুষ্মান কার্ড থাকায় ওষুধ, অস্ত্রোপচার এবং প্লেটের জন্য তাঁকে এক টাকাও দিতে হয়নি।
একই ওয়ার্ডে ভর্তি লখনউয়ের বাসিন্দা ৭৩ বছরের চুন্নি লাল সোনকর জানান, তাঁর কোমরের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার যাবতীয় খরচ আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমে হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য