
চেন্নাই, ১৫ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : তামিলনাড়ুতে গণেশ চতুর্থী উৎসব চলাকালীন পৃথক ঘটনায় দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। চেন্নাইয়ের রামাপুরমের বেঙ্কটেশ্বর নগরে গণেশ মূর্তির শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত এক ব্যক্তির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ডিন্ডিগুল জেলায় গণেশ মূর্তি স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরে এক কৃষককে খুন করা হয়েছে।
চেন্নাইয়ের রামাপুরমের বেঙ্কটেশ্বর নগরে সোমবার গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে গণেশ মূর্তির শোভাযাত্রা বের করা হয়েছিল। শোভাযাত্রাটি গোটা এলাকায় ঘোরানোর দাবি নিয়ে সেই সময় দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তা বিবাদের রূপ নেয় এবং দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারি শুরু হয়।
সংঘর্ষে শ্রীনিবাসন গুরুতর আহত হন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রামাপুরম পুলিশ খুনের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। আনন্দ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সংঘর্ষে জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করতেও তদন্ত চালানো হচ্ছে।
এদিকে, ডিন্ডিগুল জেলার কুজিলিয়ামপারাই তালুকের রামগিরির কাছে বোম্মনায়ক্কানপট্টিতেও গণেশ চতুর্থীর সময় বিবাদের পর এক কৃষককে খুনের ঘটনা সামনে এসেছে। মৃতের পরিচয় ৪৭ বছর বয়সি বোম্মন হিসেবে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর পৈতৃক গ্রামে গণেশ মূর্তি স্থাপনকে কেন্দ্র করে বোম্মনের সঙ্গে কয়েকজন গ্রামবাসীর বিবাদ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে কুজিলিয়ামপারাই থানায় নিয়ে যায়। সেখানে আলোচনার মাধ্যমে বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করা হয়।
আলোচনা শেষ হওয়ার পর বোম্মন করুভাডু নায়াক্কানুরে তাঁর তৃতীয় স্ত্রীর বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু সেখানে তিনি পৌঁছননি। পরে পুলিশ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা খবর পান, মুষ্টাক্কিনাত্তুপট্টি এলাকায় বোম্মনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন ছিল।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে। কোন পরিস্থিতিতে বোম্মনকে খুন করা হয়েছে এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দুই ঘটনাতেই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যের কারণও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য