
ভোপাল, ১৮ সেপ্টেম্বর (হি.স.): মধ্যপ্রদেশের শেওপুর জেলার কুনো জাতীয় উদ্যান থেকে ‘প্রজেক্ট চিতা’-র চার বছর পূর্ণ হওয়ার এক দিন পর শুক্রবার এল সুখবর। ভারতে জন্ম নেওয়া মাদি চিতা কেজিপি-১২ চারটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে কুনোয় চিতার সংখ্যা বেড়ে ৫৪ হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি চিতার জন্ম ভারতেই।
কুনো জাতীয় উদ্যানে শুক্রবার চারটি শাবকের জন্ম দিয়েছে ভারতে জন্ম নেওয়া মাদি চিতা কেজিপি-১২। কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর জানিয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘প্রজেক্ট চিতা’-র জন্য বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করে চিতা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই উপলক্ষকে তিনি বলেছেন, “চার বছর, চার নতুন জীবন।” তাঁর মতে, নতুন চার শাবকের জন্ম ভারতে চিতা সংরক্ষণের ক্রমবর্ধমান সাফল্য এবং এই উদ্যোগের প্রতি দৃঢ় সংকল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। কুনো জাতীয় উদ্যানের ক্ষেত্র সঞ্চালক উত্তম কুমার শর্মাও শাবক জন্মের খবর নিশ্চিত করেছেন।
নতুন চার শাবকের জন্মের পর কুনোয় চিতার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪। এর মধ্যে ৩৭টি চিতা ভারতে জন্মেছে। কেজিপি-১২-র জন্মও ভারতেই। সেই মাদি চিতার এবার শাবকের জন্ম দেওয়ার ঘটনা ‘প্রজেক্ট চিতা’-র ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বন দফতর এবং ‘প্রজেক্ট চিতা’-র সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের কাছেও ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে ভারতে জন্ম নেওয়া চিতাদের স্বাভাবিকভাবে প্রজননের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। কুনোয় চিতার সংখ্যা বাড়ানো এবং তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টার মধ্যেই চার নতুন শাবকের জন্ম বন্যপ্রাণপ্রেমীদের কাছেও বড় সুখবর। পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এই উপলক্ষে কুনো এবং ‘প্রজেক্ট চিতা’-র সঙ্গে যুক্ত সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। নতুন চার শাবকের জন্মের মধ্য দিয়ে কুনোয় চলা চিতা সংরক্ষণ অভিযানের সাফল্যের তালিকায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হল।
উল্লেখ্য, প্রায় চার মাস আগে এই মাদি চিতারই চারটি শাবকের কুনো জাতীয় উদ্যানে মৃত্যু হয়েছিল। ওই শাবকদের জন্ম হয়েছিল ১১ এপ্রিল ২০২৬। মৃত্যুর সময় তাদের বয়স ছিল প্রায় এক মাস। ১১ মে সন্ধ্যায় দল শেষবার শাবকগুলিকে জীবিত অবস্থায় দেখেছিল। পরদিন ১২ মে ২০২৬ কুনো জাতীয় উদ্যানে তাদের দেহ উদ্ধার হয়। বন দফতর জানিয়েছিল, শাবকদের দেহ আংশিকভাবে খাওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। কোনও বন্যপ্রাণীর হামলায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিল দফতর। ওই ঘটনায় মাদি চিতাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল। এবার সেই মাদি চিতাই ফের চারটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে কুনোয় চিতা প্রজনন এবং ভারতে জন্ম নেওয়া চিতার সংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ডা. মোহন যাদব কুনোয় চার নতুন শাবকের জন্মে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তিনি ঘটনাটিকে মধ্যপ্রদেশের পাশাপাশি ‘প্রজেক্ট চিতা’-র সাফল্য এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিশানির্দেশে চিতা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন। এই আনন্দের মুহূর্তে কুনো জাতীয় উদ্যানের দল এবং ‘প্রজেক্ট চিতা’-র সঙ্গে যুক্ত সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কুনোয় চিতার সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বন্যপ্রাণ পর্যটন, স্থানীয় মানুষের জীবিকা এবং বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি হেমন্ত খণ্ডেলওয়াল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিশানির্দেশে চার বছর আগে শুরু হওয়া ‘প্রজেক্ট চিতা’ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। নতুন চার শাবকের জন্মকে তিনি এই অভিযানের অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত করে আনন্দ প্রকাশ করেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য