
পটনা, ২৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.): এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদকে নিশানা করে বিজেপির প্রদেশ সভাপতি সঞ্জয় সরাগি বলেছেন, এই ইস্যুতে বিরোধীরা লাগাতার বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, এই ধরনের অবস্থান কোনওভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। তার নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ভিত্তিহীন প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি অবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা।
শনিবার সঞ্জয় সরাগি বলেন, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ আসতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন এলেই এসআইআর নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং মানুষের মনে অবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা শুরু হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্য ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য করা। কমিশন বিহারে এসআইআরের সময় রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক এবং মৃত, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া বা অন্য কোনও কারণে যাঁদের যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তাঁদের তালিকা রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল।
প্রদেশ সভাপতি বলেন, তামিলনাড়ু, কেরলম ও কর্ণাটকেও নির্বাচন হয়েছে। কর্ণাটকে নির্বাচনের সময় বিজেপির সরকার ছিল। তাহলে সেখানে ভোটার তালিকা নিয়ে গরমিলের প্রশ্ন কেন ওঠেনি? বিরোধীদের এটাও বলা উচিত, যে আসনগুলিতে তারা নির্বাচনে জয়ী হয়, সেখানে এসআইআরে গরমিল হয় না কেন?
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গেও এসআইআরের সময় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলি একাধিক আসনে জয় পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি করা যুক্তিসঙ্গত নয়। তাঁর অভিযোগ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা কংগ্রেস ও বিরোধীদের রাজনীতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মানুষ সবই বুঝতে পারছেন।
রাহুল গান্ধীকেও নিশানা করেন সরাগি। তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাহুল গান্ধীকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নেন? রাহুল গান্ধীর কাছে এই বিষয়গুলির সম্পূর্ণ তথ্যও থাকে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাহুল গান্ধী হোন বা বিরোধীরা—সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ না তুলে তাঁদের তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে নিজেদের বক্তব্য রাখা উচিত।
প্রদেশ সভাপতি বলেন, যেসব ভোটারের নাম দু’বার রয়েছে, যাঁদের মৃত্যু হয়েছে অথবা যাঁরা স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের নাম তালিকায় থেকে যাওয়ার ফলে যে ভুয়ো ভোটের সুযোগ তৈরি হয়, বিরোধীরা অতীতে তার সুবিধা নিয়েছে।
তিনি বলেন, ভোটার তালিকার শুদ্ধতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য জরুরি। এই গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা সফল হবে না।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য