
জলপাইগুড়ি, ২৭ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : মুম্বইয়ে আয়োজিত দু'দিনের 'ইন্ডিয়ান টি ইনোভেশন এক্সপো'-তে উত্তরবঙ্গের 'তিস্তা' চা বিশেষ সাফল্য অর্জন করল। চা বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষীদের উৎপাদিত চায়ের ওপর ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।
ময়নাগুড়ির জামতলা উইমেনস সেলফ হেল্প গ্রুপের বিশেষ বিভাগে উৎপাদিত 'হোয়াইট টি' (সাদা চা) প্রতি কেজি ৭৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। একই সঙ্গে সমবায় ভিত্তিতে ক্ষুদ্র চা চাষীদের দ্বারা পরিচালিত দেশের অন্যতম বৃহৎ চা কারখানা 'জয় জলপেশ স্বনির্ভর গোষ্ঠী'-র উৎপাদিত সি.টি.সি চায়ের চাহিদা এতটাই বেশি ছিল যে সমস্ত ক্রেতাদের চাহিদা মেটানোর আগেই সমস্ত স্টক শেষ হয়ে যায়।
শনিবার শুরু হয়ে রবিবার এই প্রদর্শনীর সমাপ্তি ঘটে। দুই দিনের এই প্রদর্শনীতে চা-প্রেমীদের ব্যাপক উৎসাহের পর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মতো রাজ্যগুলি উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষীদের জন্য নতুন সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষী সমিতির সম্পাদক বিজয় গোপাল চক্রবর্তী জানান, মুম্বইয়ের বড় চা বিক্রেতাদের সঙ্গে তাঁদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে, যেখানে উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষীদের কাছ থেকে চা কেনার বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। তিনি বলেন, চা বোর্ডের এই ধরণের কর্মসূচি চা বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। আগামী দিনে গুজরাট, রাজস্থান এবং দিল্লিতেও এই ধরণের প্রদর্শনী আয়োজনের দাবি জানান তিনি।
জয় জলপেশ কারখানার সভাপতি রজত রায় করজি বলেন, সিটিসি চায়ের এত বেশি চাহিদা তাঁরা আশা করেননি। পশ্চিম ও উত্তর ভারতকে সম্ভাব্য বাজার হিসেবে বিবেচনা করে সেখানে ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং এবং কোচবিহারের সাতজন ক্ষুদ্র চা চাষী চা বোর্ডের সহযোগিতায় তাঁদের হাতে তৈরি 'তিস্তা' ব্র্যান্ডের চা নিয়ে মুম্বই গিয়েছিলেন। ঘাটকোপার পশ্চিমের আর-সিটি মলে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীতে কৃষকরা সাদা চা ছাড়াও ওলং, অর্থোডক্স, সবুজ (গ্রিন টি) এবং নীল চায়ের মতো বিশেষ বৈচিত্র্যময় চা প্রদর্শন করেন। একই সময়ে ময়নাগুড়ির জয় জলপেশ ফ্যাক্টরি বিশেষ সুগন্ধযুক্ত সিটিসি চা বাজারে আনে।
এর আগে গত আগস্ট মাসেও উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষীরা দিল্লিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চা মেলায় অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে জামতলা কৃষক উৎপাদক সংস্থার মহিলা চা চাষীদের হাতে তৈরি সাদা চা প্রতি কেজি ৭৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল, যা একজন আমেরিকান ক্রেতা কিনে নেন।
বর্তমানে উত্তরবঙ্গের মোট চা উৎপাদনের প্রায় ৬৯ শতাংশ আসে ক্ষুদ্র চা চাষীদের কাঁচা পাতা থেকে। হস্তনির্মিত এই বিশেষ চায়ের গুণমানের জন্য বাজারে এর ভালো চাহিদা তৈরি হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ