দুর্গাপুরে আবারও সাইবার প্রতারণার চক্রের পর্দাফাঁস, পুলিশের অভিযানে ধৃত ১
দুর্গাপুর, ২৮ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে ফের এক সাইবার জালিয়াতি চক্রের গোপন আস্তানার হদিশ পেল পুলিশ। সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ওটিপি ও ব্যাঙ্কের গোপন তথ্য হাতিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার এই আন্তর্জাতিক চক্রটির পর্দাফাঁস করল
দুর্গাপুরে আবারও সাইবার প্রতারণার চক্রের পর্দাফাঁস, পুলিশের অভিযানে ধৃত ১


দুর্গাপুর, ২৮ সেপ্টেম্বর (হি.স.) :

শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে ফের এক সাইবার জালিয়াতি চক্রের গোপন আস্তানার হদিশ পেল পুলিশ। সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ওটিপি ও ব্যাঙ্কের গোপন তথ্য হাতিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার এই আন্তর্জাতিক চক্রটির পর্দাফাঁস করল দুর্গাপুর থানার পুলিশ। সিটি সেন্টারের একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে সাহেব মণ্ডল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের মূল বাড়ি পুরুলিয়া জেলার নিতুড়িয়া থানা এলাকায়।

দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গাপুর ও সংলগ্ন শিল্পাঞ্চল এলাকায় সাইবার প্রতারকদের একটি বড়সড় চক্র সক্রিয় হওয়ার খবর পাচ্ছিল পুলিশ। গোপন সূত্রে সুনির্দিষ্ট খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ সিটি সেন্টারের ১২ নম্বর রানী রাসমণি রোড এলাকার ওই আস্তানায় আচমকা হানা দেয়। সেখান থেকেই হাতেনাতে ধরা পড়ে সাহেব মণ্ডল। ধৃতের কাছ থেকে একটি অত্যাধুনিক ল্যাপটপ, একাধিক দামি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্কের প্রচুর পাসবই, এটিএম কার্ড ও ভুয়ো নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার ধৃতকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তার জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন।

তদন্তকারীদের দাবি, সাধারণ মানুষকে নানা কৌশলে লোভনীয় অফার কিংবা ব্যাঙ্ক আধিকারিকের পরিচয় দিয়ে ফোন করত এই চক্রের সদস্যরা। এরপর বিশ্বাস অর্জন করে কৌশলে ব্যাঙ্কের গোপন ওটিপি ও পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে অ্যাকাউন্ট শূন্য করে দেওয়া হতো। ধৃতের থেকে উদ্ধার হওয়া ল্যাপটপ ও মোবাইলের ডেটা এবং ব্যাঙ্কের নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। এই জালিয়াতি চক্রের মাধ্যমে কত টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং এর সঙ্গে দুর্গাপুর বা ভিন রাজ্যের আর কারা যুক্ত, তা জানতে ধৃত সাহেব মণ্ডলকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত দুই মাসে দুর্গাপুর ও সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক সাইবার প্রতারণা চক্র পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর সাইবার প্রতারণার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ধৃত মুন্নু আনসারী ও নাসিম আনসারী ঝাড়খণ্ডের দেওঘরের পালাজুড়ির বাসিন্দা হলেও দুর্গাপুরের নঈমনগরে ডেরা বেঁধেছিল। এছাড়া সুলতান আনসারী, গণেশ রাও, প্রভাত সিং, শ্রীভান্ত মোদী, সুজল সাউ, আনন্দ সাউ, রোহিত তাঁতি ও সোনু দেবনাথ নামে অন্য ধৃতরা দুর্গাপুর থানার সোনারতরী, নঈমনগর ও মসজিদ মহল্লার বাসিন্দা। এরা কুখ্যাত 'জামতাড়া গ্যাং'-এর সঙ্গে যুক্ত বলে অনুমান পুলিশের। এর আগে আসানসোলের নিয়ামতপুরের হরিজনপাড়ায় ড্রোন উড়িয়ে প্রায় ১০ ঘণ্টার এক মেগা অভিযানে বিলাসবহুল বাড়ি থেকে ১১ জন সাইবার অপরাধীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। দুর্গাপুরে একের পর এক সাইবার চক্রের সক্রিয়তায় শিল্পাঞ্চলবাসী উদ্বিগ্ন হলেও, পুলিশ জানিয়েছে অপরাধ দমনে লাগাতার অভিযান ও তদন্ত জারি রয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande