উদ্বোধনের বছর ঘুরলেও চালু হয়নি দুর্গাপুর মডেল আদালত ভবন, পরিদর্শনে তিন বিধায়ক
দুর্গাপুর, ২৮ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : বাইরে ঝলমলে গোলাপি রং, কিন্তু সম্পূর্ণ নির্মাণকাজ শেষ না করেই বছরখানেক আগে তড়িঘড়ি উদ্বোধন করা হয়েছিল দুর্গাপুর মডেল আদালত ভবনের। অথচ উদ্বোধনের এক বছর অতিক্রান্ত হলেও আজ পর্যন্ত সেখানে আদালতের মূল কাজকর্মই চালু
উদ্বোধনের বছর ঘুরলেও চালু হয়নি দুর্গাপুর মডেল আদালত ভবন, পরিদর্শনে তিন বিধায়ক


দুর্গাপুর, ২৮ সেপ্টেম্বর (হি.স.) :

বাইরে ঝলমলে গোলাপি রং, কিন্তু সম্পূর্ণ নির্মাণকাজ শেষ না করেই বছরখানেক আগে তড়িঘড়ি উদ্বোধন করা হয়েছিল দুর্গাপুর মডেল আদালত ভবনের। অথচ উদ্বোধনের এক বছর অতিক্রান্ত হলেও আজ পর্যন্ত সেখানে আদালতের মূল কাজকর্মই চালু করা সম্ভব হলো না। অভিযোগ, সঠিক রক্ষনাবেক্ষণের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা নতুন এই ভবনে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিষধর সাপ, আর ভেতরে জমে থাকা জলে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান ফার্নিচার ও আসবাবপত্র। সোমবার দুর্গাপুর মডেল আদালত ভবন যৌথভাবে পরিদর্শন করেন এলাকার তিন বিধায়ক এবং খুব শীঘ্রই প্রশাসনিক জট কাটিয়ে নতুন ভবন চালুর আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫৬ সালে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার প্রশাসনিক ভবনে প্রথম এই মহকুমা আদালতের কাজকর্ম শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে সিটি সেন্টারে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এডিডিএ) একটি ভবনে আদালত স্থানান্তরিত হয়। চারতলাবিশিষ্ট ওই পুরানো ভবনে ট্রেজারি ও ডাকঘরের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর থাকলেও, বর্তমানে ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। দেওয়াল বেয়ে খসে পড়ছে পলেস্তার ও চাঙড়, বেজে উঠেছে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার চূড়ান্ত অভাব। এক কথায় জতুগৃহে পরিণত হওয়া এই পুরানো ভবনটি এখন আইনজীবী ও সরকারি কর্মীদের কাছে চরম আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানে বর্তমানে প্রায় ১১০০ নথিভুক্ত আইনজীবী, একাধিক ল-ক্লার্ক ও অসংখ্য কর্মী রয়েছেন। ফলে নিজস্ব ও আধুনিক আদালত ভবনের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। সেই লক্ষ্যেই ২০১৮ সালে এডিডিএ-র উদ্যোগে জি+৪ তলাবিশিষ্ট নতুন আদালত ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়, যেখানে ১৬টি আধুনিক এজলাস, ডিজিটাল রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের সুবিধা থাকার কথা। দীর্ঘ বিলম্বের পর নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া সত্ত্বেও গত ২০২৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টি. এস. শিবজ্ঞানম ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের এক বছর পার হলেও নতুন ভবনে কাজ শুরু না হওয়ায় মারাত্মক ক্ষুব্ধ আইনজীবী মহল। আইনজীবীদের মূল অভিযোগ, নতুন ভবনে তাঁদের বসার কোনো স্থায়ী ও নিরাপদ ব্যবস্থা করা হয়নি। এডিডিএ-র পক্ষ থেকে পাশে থাকা একটি পুরোনো ভবনের ছাদে টিনের শেড তৈরি করে বসার কথা বলা হলেও, ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাতে আপত্তি জানান আইনজীবীরা। দুর্গাপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি সৌরিন দাস জানান, আইনজীবীদের বসার স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে বারবার আবেদন জানানো হলেও ইতিপূর্বে তাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে নতুন সরকারের কাছে বিধায়কদের আশ্বাসে তাঁরা ইতিবাচক সমাধানের আশা করছেন।

সোমবার দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণ চন্দ্র ঘড়ুই এবং রানীগঞ্জের বিধায়ক পার্থ ঘোষ যৌথভাবে নতুন ভবনের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন। পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ভবন প্রাঙ্গণে সাপ ঘুরে বেড়াচ্ছে, যত্রতত্র জমছে জল এবং ব্যবহারের আগেই বেশ কিছু অংশের চাঙড় খসে পড়তে শুরু করেছে। পরিদর্শন শেষে দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এই অপরিকল্পিত নির্মাণের সমালোচনা করেন। অন্যদিকে আইনজীবী তথা রানীগঞ্জের বিধায়ক পার্থ ঘোষ জানান, নতুন আদালত ভবনটি যাতে দ্রুত সচল করা যায়, সেই বিষয়ে তিনি খুব শীঘ্রই রাজ্য আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande