
- ভিএইচপি-র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কোটেশ্বর শর্মার সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকার
ডঃ মায়াঙ্ক চতুর্বেদী
ভোপাল, ২৮ সেপ্টেম্বর (হি.স.): বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) হিন্দু মন্দির পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ন্ত্রণের তীব্র বিরোধিতা করেছে এবং মন্দিরের অনুদান ও অন্যান্য আয়কে সরকারি রাজস্ব হিসেবে দেখাকে অনুচিত বলে অভিহিত করেছে। ভিএইচপি জানিয়েছে, মন্দিরের প্রতিটি পয়সা সনাতন ধর্ম ও সমাজের উত্থানের জন্য গুরুকুল, বেদ পাঠশালা, গোশালা, হাসপাতাল এবং দরিদ্র সমাজের সেবার মতো কাজে লাগানো উচিত। এর জন্য ভিএইচপি আইনি লড়াইও লড়বে।
ভিএইচপি-র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কোটিশ্বর শর্মা ভোপাল সফরকালে ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-এর সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মন্দিরের সরকারি নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে ধর্মান্তর বিরোধী আইন, আদিবাসী এলাকায় ‘ঘর ওয়াপসি’, জাতিগত বৈষম্য, পুরোহিত প্রশিক্ষণ, বাল সংস্কার কেন্দ্র, গোত্র ও বংশতালিকা সংরক্ষণ এবং তীর্থযাত্রার সাথে পর্যটনের পার্থক্যের মতো বিভিন্ন বিষয়ে ভিএইচপি-র অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
সংগঠনের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে ভিএইচপি-র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন যে, সংগঠনটি হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করা, সামাজিক সম্প্রীতি, মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় স্থানগুলির স্বায়ত্তশাসনের মতো বিষয়গুলিতে জোর দিচ্ছে। তিনি জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে অশোক সিঙ্ঘলজির জন্মশতবার্ষিকী শুরু হয়েছে। ভিএইচপি এটিকে সংগঠনের বিস্তারের বছর হিসেবে দেখছে এবং প্রতিটি প্রখণ্ড (ব্লক) ও সংবেদনশীল এলাকা পর্যন্ত সৎসঙ্গ মণ্ডলের বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে।
প্রশ্ন: মন্দিরের সরকারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভিএইচপি ক্রমাগত প্রশ্ন তুলে আসছে। তামিলনাড়ু সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেখানে হিন্দু ও জৈন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪৬,৩৩৮। এত বড় ধর্মীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রসঙ্গে ভিএইচপি ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা চায়?
উত্তর: আমাদের মূল প্রশ্ন একটাই—হিন্দু মন্দির হিন্দুদের শ্রদ্ধার কেন্দ্র, সরকারের রাজস্ব উপার্জনের উৎস নয়। সরকারের কাজ শাসন পরিচালনা করা, মন্দিরের ধর্মীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা নয়। আমরা চাই হিন্দু সমাজও যেন তাদের ধর্মীয় স্থান স্বাধীনভাবে পরিচালনার সাংবিধানিক অধিকার পায়। ভিএইচপি সাধু-সন্ত, আইন বিশেষজ্ঞ এবং সচেতন সমাজকে সাথে নিয়ে এই বিষয়ে দেশব্যাপী জনসচেতনতা তৈরি করছে এবং একটি কেন্দ্রীয় আইনের দাবি জানাচ্ছে। মন্দিরের সংখ্যা যত বড়ই হোক না কেন, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো এর সাথে জড়িত কোটি কোটি ভক্তের আস্থা ও ধর্মীয় অধিকারের।
প্রশ্ন: মন্দিরের আয়ের ব্যবহার নিয়েও প্রায়ই বিতর্ক দেখা যায়। ভিএইচপি বলে আসছে যে মন্দিরের আয় ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে ব্যবহৃত হওয়া উচিত। আপনি কি এর জন্য কোনো স্পষ্ট মডেল প্রস্তাব করছেন?
উত্তর: আমাদের স্পষ্ট মত হলো, মন্দিরের প্রতিটি পয়সা সনাতন ধর্ম ও সমাজের কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত। গুরুকুল, বেদ পাঠশালা, গোশালা, হাসপাতাল এবং দরিদ্র সমাজের সেবার মতো কাজগুলি মন্দিরের মাধ্যমে করা যেতে পারে। মন্দির যদি সমাজের শ্রদ্ধার শক্তিতে পরিচালিত হয়, তবে তার আয়ও সমাজ ও ধর্মের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার হওয়া উচিত। আমরা এই বিষয়ে আইনি লড়াইও লড়ছি এবং সমাজে সচেতনতাও তৈরি করছি।
প্রশ্ন: ধর্মান্তরের বিষয়ে পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১১টি রাজ্যে ধর্মান্তর নিয়ন্ত্রণের আইন ছিল। এই পরিস্থিতিতে ভিএইচপি পুরো দেশের জন্য একটি আলাদা কেন্দ্রীয় আইনের প্রয়োজনীয়তা কেন অনুভব করছে?
উত্তর: আমরা মনে করি, বিভিন্ন রাজ্যে আলাদা আইন থাকার কারণে পরিস্থিতি সব জায়গায় একরকম থাকে না। ছল-চাতুরি, ভয় বা প্রলোভনের মাধ্যমে হওয়া ধর্মান্তর রোধ করতে পুরো দেশে একটি সমান ও কঠোর কেন্দ্রীয় আইন থাকা উচিত। কিছু রাজ্য আইন প্রণয়ন করেছে, তবে আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, যেসব এলাকায় আইন তুলনামূলকভাবে দুর্বল, সেখানে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়। তাই আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জাতীয় স্তরে আইনের দাবি জানাচ্ছি।
প্রশ্ন: ‘ঘর ওয়াপসি’ নিয়ে ভিএইচপি-র ভাষায় ‘মূল সনাতন ধর্মে ফিরে আসার’ কথা বলা হয়। আদিবাসী এলাকায় এই অভিযানের প্রকৃত রূপ কী এবং এর বিস্তার কতটা হয়েছে?
উত্তর: আমাদের কাছে ‘ঘর ওয়াপসি’-র অর্থ কারো ওপর চাপ সৃষ্টি করা নয়। আমাদের বক্তব্য হলো, অতীতে যারা পরিস্থিতি, ভয় বা প্রলোভনের কারণে নিজেদের মূল ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন, তাদের নিজস্ব শিকড়ে ফিরে আসার সুযোগ পাওয়া উচিত। আদিবাসী এলাকায় ভিএইচপি শিক্ষা, চিকিৎসা ও সেবামূলক কাজের মাধ্যমেও কাজ করছে। আমাদের তথ্য অনুযায়ী, হাজার হাজার পরিবার স্বেচ্ছায় তাদের মূল সনাতন ঐতিহ্যে ফিরে এসেছে। এই অভিযান সেবা, সচেতনতা এবং আত্মমর্যাদার ভাব নিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রশ্ন: ভিএইচপি-র ঘোষিত কর্মসূচিতে সামাজিক সম্প্রীতি এবং অস্পৃশ্যতা দূরীকরণকে বিশেষ স্থান দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ‘এক কূপ, এক মন্দির, এক শ্মশান’-এর মতো স্লোগানগুলিকে কীভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে?
উত্তর: শুধু স্লোগান দিলেই সামাজিক সম্প্রীতি আসবে না। সাধু-সন্ত এবং কর্মীদের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন বর্গের মানুষের সাথে যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে। সৎসঙ্গ মণ্ডলগুলিতে সামাজিক প্রীতিভোজ এবং ধর্মীয় আলোচনা হয়। আমাদের প্রচেষ্টা হলো মন্দির, জলাশয় এবং শেষকৃত্যের মতো সামাজিক জীবনের মূল কেন্দ্রগুলিতে বৈষম্য দূর করা। সনাতন সমাজে জন্মের ভিত্তিতে উচ্চ-নিচ ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়।
প্রশ্ন: ভিএইচপি অর্চক প্রশিক্ষণকেও সামাজিক সম্প্রীতির সাথে যুক্ত করছে। এর অর্থ কি এই যে ঐতিহ্যবাহী পুরোহিত ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের লক্ষ্যে সংগঠনটি কাজ করছে?
উত্তর: আমরা মনে করি পুরোহিত হওয়ার ভিত্তি কেবল জন্ম নয়, যোগ্যতা ও দীক্ষাও হওয়া উচিত। তাই আমরা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি এবং অনগ্রসর শ্রেণীর তরুণদের বৈদিক পূজা পদ্ধতি, ক্রিয়াকাণ্ড ও সংস্কারের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এতে দুটি উদ্দেশ্য পূরণ হয়—একদিকে যোগ্য পুরোহিত তৈরি হয়, অন্যদিকে সমাজের জাতিগত দূরত্ব হ্রাস পায়।
প্রশ্ন: ভিএইচপি-র মতে দেশে হাজার হাজার সৎসঙ্গ মণ্ডল সক্রিয় রয়েছে। ২০২৬ সালকে আপনারা সংগঠন বিস্তারের বছর হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই বিস্তারের মাপকাঠি কী হবে? কেবল সংখ্যা বাড়ানো, নাকি কোনো সামাজিক ফলাফলে পৌঁছানো?
উত্তর: সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমাদের লক্ষ্য কেবল সংখ্যা বাড়ানো নয়। ২০২৬ সালে আমাদের সংকল্প হলো প্রতিটি ব্লক এবং সংবেদনশীল এলাকা পর্যন্ত সৎসঙ্গ মণ্ডল পৌঁছে দেওয়া। বর্তমানে সারাদেশে ৩৫,০০০-এরও বেশি সৎসঙ্গ মণ্ডল চলছে। আমরা এই সংখ্যা দ্বিগুণের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। সৎসঙ্গের উদ্দেশ্য হলো সংগঠনের সাথে মূল্যবোধ ও সেবাকে যুক্ত করা। তাই কোনো মণ্ডলের সফলতা কেবল তার বৈঠকের সংখ্যা দিয়ে নয়, সমাজে আসা পরিবর্তনের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা উচিত।
প্রশ্ন: আপনার মতে, সৎসঙ্গের ফলে মাদকমুক্তি, পরিবারে উন্নতি এবং শিশুদের মধ্যে ভালো সংস্কারের মতো পরিবর্তন এসেছে। ভিএইচপি কি এই দাবিগুলিকে কোনো সুনির্দিষ্ট গবেষণা বা তথ্যের মাধ্যমে নথিভুক্ত করছে?
উত্তর: বর্তমানে আমাদের মূল জোর সমাজের মাঝে প্রত্যক্ষ কাজের ওপর। যেখানে নিয়মিত সৎসঙ্গ চলছে, সেখানে আমরা মাদকমুক্তি, পারিবারিক সম্পর্কের উন্নতি এবং শিশুদের নৈতিক শিক্ষার মতো পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। আমাদের অভিজ্ঞতা হলো সৎসঙ্গ কেবল কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সেখানে দেশ, পরিবার, শিশুদের মূল্যবোধ এবং সামাজিক সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়। আগামী দিনে এই কাজের প্রভাব আরও পদ্ধতিগতভাবে নথিভুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রশ্ন: মোবাইল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে শিশুদের সাথে যুক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ভিএইচপি ‘বাল সংস্কার কেন্দ্র’ বিস্তারের কথা বলেছে। এর লক্ষ্য কতটা ব্যাপক?
উত্তর: আমাদের প্রচেষ্টা প্রতিটি জেলা কেন্দ্র এবং প্রধান বসতি পর্যন্ত বাল সংস্কার কেন্দ্র পৌঁছে দেওয়া। শিশুদের কেবল ধর্মীয় কথা বলা এর উদ্দেশ্য নয়। যোগব্যায়াম, দেশপ্রেমীদের জীবনগাথা, নৈতিক মূল্যবোধ, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব এবং সনাতন ঐতিহ্যের বৈজ্ঞানিক দিকও তুলে ধরা হবে। আমরা বিশ্বাস করি সংস্কার ছোটবেলা থেকেই শুরু হওয়া উচিত। মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রশ্ন: নগরায়নের কারণে গোত্র, কুলদেবতা এবং বংশতালিকার মতো ঐতিহ্যবাহী তথ্য নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এটি সংরক্ষণে ভিএইচপি-র কি কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে?
উত্তর: ‘কুটুম্ব প্রবোধনে’র মাধ্যমে আমরা পরিবারগুলিকে তাদের বংশবৃক্ষ, গোত্র এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের নথি তৈরি করতে অনুপ্রাণিত করছি। শতাব্দী ধরে বংশলিপি লিখে আসা জাগা, রাও এবং ভাটের মতো ঐতিহ্যবাহী সম্প্রদায়ের নথিগুলিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, কারণ পরিবারের শিকড় কেবল নাম বা পদবী দিয়ে জানা যায় না। আগামী প্রজন্মকে তাদের পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তথ্য জানা উচিত।
প্রশ্ন: মন্দিরগুলিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং তীর্থক্ষেত্র হিসেবে দেখার মধ্যে ভিএইচপি মূল পার্থক্য কী মনে করে?
উত্তর: মন্দির কেবল ঘোরার জায়গা নয়। এগুলি আরাধনা, তপস্যা এবং আধ্যাত্মিক সাধনার কেন্দ্র। পর্যটনে সুবিধা এবং বিনোদন প্রধান হতে পারে, কিন্তু তীর্থযাত্রায় শ্রদ্ধা, সংযম, নিয়ম এবং আত্ম-রূপান্তর প্রধান। তাই আমরা চাই পবিত্র ধামগুলির উন্নয়ন তাদের ধর্মীয় গাম্ভীর্য বজায় রেখে হোক। আধুনিক সুবিধা থাকুক, তবে মন্দিরের মূল আধ্যাত্মিক পরিচয় প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়।
প্রশ্ন: কাশী বিশ্বনাথ ধাম, মহাকাল লোক এবং বিন্ধ্যাচলের মতো ধর্মীয় করিডোরগুলির বিষয়ে ভিএইচপি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। তবে স্থাপত্যের বিশালতা এবং আধ্যাত্মিকতার মধ্যে কি কোনো ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি?
উত্তর: অবশ্যই। তীর্থক্ষেত্রগুলির উন্নয়ন যেন পুণ্যার্থীদের জন্য সুবিধা বাড়ায়। কেবল বিশালতা তৈরি করা মূল লক্ষ্য হতে পারে না। গর্ভগৃহের প্রাচীনতা, মূল পূজা পদ্ধতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিক শান্তি বজায় রাখা উচিত। আমাদের স্পষ্ট মত হলো—উন্নয়ন এমন হওয়া উচিত যা আধ্যাত্মিকতাকে বৃদ্ধি করে, তাকে দাবিয়ে না দেয়।
প্রশ্ন: ২০২৬ সালকে ভিএইচপি অশোক সিঙ্ঘলের জন্মশতবার্ষিকী হিসেবে উদযাপন করছে। ভিএইচপি কি এই উপলক্ষকে কেবল স্মরণের বছর হিসেবে দেখছে, নাকি সংগঠনের জন্য কোনো নতুন লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে?
উত্তর: এটি আমাদের জন্য কেবল স্মরণের সুযোগ নয়। অশোক সিঙ্ঘলজির জীবন হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করা, সাংস্কৃতিক জাগরণ এবং হিন্দু স্বাভিমানের সাথে যুক্ত ছিল। আমরা এটি সংগঠনের বিস্তারের বছর হিসেবে গ্রহণ করেছি। আমাদের প্রচেষ্টা হলো তার চিন্তাধারা ও কাজকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিটি ব্লক ও সংবেদনশীল এলাকা পর্যন্ত সাংগঠনিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত করা।
প্রশ্ন: মন্দিরের স্বায়ত্তশাসন, সামাজিক সম্প্রীতি, সৎসঙ্গ, বাল সংস্কার, পুরোহিত প্রশিক্ষণ এবং সংগঠনের বিস্তারকে যদি একসাথে দেখা হয়, তবে ভিএইচপি-র আগামী অভিযানের মূল কেন্দ্রবিন্দু কী মনে হয়?
উত্তর: মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো হিন্দু সমাজকে সংগঠিত ও জাগ্রত করা। মন্দির হলো শ্রদ্ধার কেন্দ্র, সৎসঙ্গ সমাজকে যুক্ত করার মাধ্যম, সংস্কার নতুন প্রজন্মকে দিকনির্দেশনা দেয় এবং সামাজিক সম্প্রীতি সমাজকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে। আমাদের প্রচেষ্টা হলো সেবা, সংস্কার, সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক চেতনাকে একে অপরের সাথে যুক্ত করা। সমাজের প্রতিটি বর্গ যখন নিজেদের এই ব্যাপক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ধারার অংশ মনে করবে, তখনই সংগঠনের উদ্দেশ্য সফল হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / Sachin Budhauliya