ত্রিপুরায় ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে ভোট পড়ল ৭৯ শতাংশ
আগরতলা, ২৮ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : টিটিএএডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে ব্যাপক ভোটদানের ছবি সামনে এসেছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরও বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক ভোটার লাইনে অপেক্ষা করায় তাঁ
ভিলেজ কমিটির নির্বাচন


আগরতলা, ২৮ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : টিটিএএডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে ব্যাপক ভোটদানের ছবি সামনে এসেছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরও বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক ভোটার লাইনে অপেক্ষা করায় তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, প্রায় ৮ হাজার ভোটারকে স্লিপ দিয়ে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পিকে চক্রবর্তী জানান, বিকেল ৪টার পরেও বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ছিল। তাই নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণের আনুষ্ঠানিক সময় শেষ হলেও লাইনে থাকা ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়নি। তাঁদের হাতে স্লিপ দিয়ে পর্যায়ক্রমে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিকেল ৪টায় নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও লাইনে অপেক্ষারত প্রায় ৮ হাজার ভোটারকে স্লিপ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকেই ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত ভোটদানের হার জানা যাবে।

উল্লেখ্য, ত্রিপুরার ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে এবার মোট ৮,১৭৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সকাল থেকেই ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। বহু ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পিকে চক্রবর্তী জানান, রাজ্যজুড়ে মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

তবে গোমতী জেলার মাতাবাড়ি ব্লকের ওহাইনবাড়ি এসবি স্কুলের কাছে একটি থানার বাইরে একটি ঘটনা ঘটে। ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আরও একজন সামান্য আহত হন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে আহত দু’জনকে গোমতী জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়েও বিস্তারিত জানান রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোট পাঁচটি অভিযোগ কমিশনের কাছে জমা পড়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে শ্রীমঙ্গলপুর ভিলেজ কমিটি, পানবুয়া ভিলেজ কমিটি, তেলিয়ামুড়া, কল্যাণপুর এবং পাহাড়পুর এলাকার বিষয় রয়েছে।

তিনি জানান, অভিযোগগুলি মূলত রাজনৈতিক বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিটি অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। তাঁদের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর অভিযোগগুলির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স এবং অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী গ্রহণ কেন্দ্রগুলিতে পৌঁছতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ব্যালট বাক্সের পাশাপাশি ব্যালট পেপারের হিসাব এবং অন্যান্য বিধিবদ্ধ ও অবিধিবদ্ধ ফর্ম জমা দেওয়ার পর নির্বাচনের সার্বিক চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

সমস্ত নির্বাচনী সামগ্রী গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ব্যালট বাক্সগুলি নির্দিষ্ট সুরক্ষিত কক্ষে রাখা হবে। কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী সেগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ভোটগ্রহণ শেষে এখন নজর ব্যালট বাক্স সংরক্ষণ এবং পরবর্তী গণনা প্রক্রিয়ার দিকে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande