
আগরতলা, ৩০ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : দাবি করা ৫ লক্ষ টাকা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে বোধজংনগর থানার অধীন কাশীপুর বাজার সংলগ্ন অরবিন্দ ক্লাবের সামনে এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গুরুতর আহত ব্যবসায়ী বর্তমানে জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার প্রায় ২০ ঘন্টা পরও অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হওয়ায় কাশীপুর বাজার এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
জানা গেছে, আহত ব্যবসায়ীর নাম অনুপ কুমার সিংহ। পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ দোকানের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন অনুপ। কাশীপুর বাজার সংলগ্ন অরবিন্দ ক্লাবের সামনে পৌঁছতেই কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকায়। এরপর তাঁকে মারধর করার পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, দুষ্কৃতীদের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রে সাইলেন্সার লাগানো ছিল। গুলি চালানোর সময় অনুপ মাটিতে পড়ে যাওয়ায় গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং তিনি প্রাণে বেঁচে যান। তবে হামলাকারীদের মারধরে তাঁর মুখ ও হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
শুধু গুলি চালানোই নয়, হামলার পর অনুপের কাছ থেকে প্রায় দুই ভরি ওজনের একটি সোনার চেইন এবং নগদ ৫১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনায় বীরেন্দ্র মজুমদার ও ঝুটন ঘোষের নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, অনুপ কুমার সিংহের কাছে দীর্ঘদিন ধরে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হচ্ছিল। সেই টাকা না দেওয়ার জেরেই পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
ঘটনার পর বুধবার অনুপের ছেলে বোধজংনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
পরিবারের আরও দাবি, গুলির সময় সাইলেন্সার ব্যবহারের কারণে আশপাশের মানুষ কোনও শব্দ শুনতে পাননি। ফলে ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে কাশীপুর বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, প্রকাশ্য এলাকায় একজন ব্যবসায়ীকে আটকে মারধর, আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠায় এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ঘটনার প্রায় ২০ ঘন্টা পরও অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলাকারীদের সংখ্যা এবং অভিযোগের সঙ্গে ৫ লক্ষ টাকা দাবির যোগসূত্রসহ গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ