
আগরতলা, ৩০ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও জনকল্যাণমূলক পরিষেবার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য ও দায়িত্ব। সরকারি কর্মী এবং জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করে কাজ করলেই মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। বুধবার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসকের কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সাধারণ সভায় এই বার্তা দেন সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া।
জিলা পরিষদের সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক স্বপ্না দেববর্মা, বিধায়ক মিনা রানি সরকার, বিধায়ক গোপাল রায়, জিলা পরিষদের সদস্যরা, জেলার বিভিন্ন পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান, ব্লকের বিডিও এবং বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা।
সভায় পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও জনপরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, খাদ্য, কৃষি, মৎস্য, উদ্যান, জলসম্পদ, পানীয়জল ও জনস্বাস্থ্য, পূর্ত, গ্রামোন্নয়ন, শ্রম, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা-সহ বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দফতরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত উন্নয়ন কর্মসূচি ও পরিষেবার অগ্রগতি সভায় তুলে ধরেন।
সভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও জনসমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। কোথায় উন্নয়নমূলক কাজ চলছে, কোন প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে এবং কোথায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন—এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, সরকার নীতি নির্ধারণ করে থাকে। সেই নীতি ও সিদ্ধান্তকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা আধিকারিকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সরকারি প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কাজের সুফল যাতে দ্রুত এবং বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকলকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।
সভায় সমবায় দপ্তরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় মন্ত্রী জানান, রাজ্যে সমবায় সমিতিগুলিকে আরও সক্রিয় করে বহুমুখী কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ২০১৮ সালের আগে রাজ্যের অধিকাংশ সমবায় সমিতি লোকসানে চলত। বর্তমানে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে আরও সমবায় সমিতি, ল্যাম্পস ও প্যাকস গঠন করার পাশাপাশি পুরোনো সমিতিগুলিকেও সংস্কার করে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মানুষের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল এবং জেলাশাসক ডাঃ বিশাল কুমার। বিভিন্ন দপ্তরের কাজের অগ্রগতি, মাঠপর্যায়ে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়গুলি নিয়েও মতবিনিময় হয়।
বিধায়ক স্বপ্না দেববর্মা মান্দাই এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বিষয় সভায় তুলে ধরেন। তিনি অসমাপ্ত কাজগুলি দ্রুত শেষ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। একইভাবে বিধায়ক গোপাল রায় পানীয়জল পরিষেবা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বিদ্যুৎ পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং গ্রামীণ মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সামগ্রিকভাবে, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের এই সাধারণ সভায় জেলার উন্নয়নমূলক কর্মসূচিগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে দ্রুত পৌঁছে যায়, সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার বার্তা দেওয়া হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ