দক্ষিণ কলকাতার নামী স্কুলে সহপাঠীর ওপর ধারালো অস্ত্রের হামলা, ক্লাসরুমে সহপাঠীকে কোপানোর অভিযোগ
কলকাতা, ৩০ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : দক্ষিণ কলকাতার অত্যন্ত পরিচিত ও নামী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাউথ পয়েন্ট স্কুলে ঘটে গেল এক মারাত্মক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বুধবার স্কুলের মধ্যেই নবম শ্রেণির এক ছাত্রের ওপর ধারালো ছুরি নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তারই
দক্ষিণ কলকাতার নামী স্কুলে সহপাঠীর ওপর ধারালো অস্ত্রের হামলা, ক্লাসরুমে সহপাঠীকে কোপানোর অভিযোগ


কলকাতা, ৩০ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : দক্ষিণ কলকাতার অত্যন্ত পরিচিত ও নামী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাউথ পয়েন্ট স্কুলে ঘটে গেল এক মারাত্মক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বুধবার স্কুলের মধ্যেই নবম শ্রেণির এক ছাত্রের ওপর ধারালো ছুরি নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তারই এক সহপাঠীর বিরুদ্ধে। রক্তাপ্লুত অবস্থায় আক্রান্ত ছাত্রকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ক্লাসরুমের ভেতরে ঘটে যাওয়া এই রক্তক্ষয়ী হামলায় অন্যান্য পড়ুয়াদের মধ্যে যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তেমনই স্কুলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পাওয়া সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ২৯ মিনিট নাগাদ নবম শ্রেণির ক্লাসরুমে যখন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন, তখনই আচমকা এক ছাত্র তার সহপাঠীর ওপর ধারালো বস্তু নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ক্লাসরুমেই রক্তভেজা অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে আক্রান্ত ছাত্রটি। পরিস্থিতি সামাল দিতে সঙ্গে সঙ্গে তাকে স্কুলের প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে (ইনফার্মারি) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরই স্কুলের শিক্ষক ও কর্মীরা জখম ছাত্রটিকে উদ্ধার করে রুবি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং তার অভিভাবককে খবর দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন ছাত্রটির শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

হামলাকারী ছাত্রটিকে তৎক্ষণাৎ ক্লাস থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। স্কুলের নিজস্ব মনোবিদেরা তাকে দীর্ঘ সময় ধরে কাউন্সেলিং করেন এবং পরবর্তীতে তার বাবার জিম্মায় তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার খবর পৌঁছানো হয় গড়িয়াহাট থানায় এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে একটি লিখিত রিপোর্ট থানায় জমা দেওয়া হয়।

গড়িয়াহাট থানা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ছাত্রটি আপাতত চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল। পুলিশকে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, অভিযুক্ত ছাত্রটি ‘অটিস্টিক’। অভিযুক্তের বয়স বিবেচনা করে সমগ্র বিষয়টি জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের কাছে পাঠানো হচ্ছে। বোর্ডই সিদ্ধান্ত নেবে কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি ধারা প্রযোজ্য হবে কি না।

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার অভিযুক্ত ছাত্রটি স্কুলেই বইয়ের পাতা ছিঁড়ে ফেলেছিল। বুধবার এই বিষয়টি নিয়ে আক্রান্ত ছাত্রটি ক্লাস টিচারের কাছে অভিযোগ জানাতে যায়। শিক্ষক মহাশয় যখন অভিযুক্ত ছাত্রটিকে ডেকে পাঠান, তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়ে সে এবং ব্যাগ থেকে ধারালো বস্তু বের করে সহপাঠীর ওপর হামলা চালায়।

আক্রান্ত ছাত্রটির বাবার অভিযোগ, আগের দিন বই ছেঁড়ার ঘটনা নিয়ে শিক্ষক তাকে বকাঝকা করেছিলেন। সেই রাগে ও প্রতিশোধের বশে পরিকল্পনা মাফিক স্কুলব্যাগে ছুরি লুকিয়ে নিয়ে এসে তাঁর ছেলের ওপর এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে সহপাঠী।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিভাবকমহলে মারাত্মক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্কুলের গেটে কঠোর নিরাপত্তা ও চেকিং ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এক ছাত্র বইয়ের ব্যাগে করে ধারালো ছুরি ক্লাসরুম পর্যন্ত নিয়ে এল, তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবকরা।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande