
চণ্ডীগড়, ৩০ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : পঞ্জাব থেকে মাদক ব্যবসা নির্মূল করতে বড় ধরনের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার জলন্ধরে বিজেপির ‘মাদকমুক্ত পঞ্জাব যাত্রা’র সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সুবিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আসন্ন পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) মূলত মাদকের ইস্যুটিকে সামনে রেখেই লড়াই করবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, পঞ্জাবে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যকে সম্পূর্ণভাবে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজ্যের আম আদমি পার্টি (আপ) সরকারকে পঞ্জাবে মাদকের বাড়বাড়ন্ত রোধে চরম ব্যর্থ বলে অভিযুক্ত করেন অমিত শাহ। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে সরাসরি নিশানা করে তিনি বলেন, “যাঁরা মাদকের কারবার রুখতে অক্ষম, তাঁদের দিয়ে পঞ্জাবকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব নয়।” দিল্লির তথাকথিত আবগারি দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি আপ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, যাঁরা নিজেরা মাদকের কারবারকে পরোক্ষভাবে উৎসাহ দেয়, তাঁদের কাছ থেকে পঞ্জাবকে মাদকমুক্ত করার আশা করা বৃথা।
পঞ্জাবের জওয়ান ও কৃষকদের অভূতপূর্ব অবদানের কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পঞ্জাবের সাহসী বীর জওয়ানরা দেশের সুরক্ষায় আত্মত্যাগ করেন এবং এখানকার কৃষকরা গোটা দেশের খাদ্য ভাণ্ডার পূর্ণ করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, পঞ্জাবের আপ সরকার কৃষকদের ২৬টি ফসলে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করেনি। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে কৃষকদের যাবতীয় সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
পঞ্জাবের যুবসমাজের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া মাদকের ভয়ঙ্কর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অমিত শাহ বলেন, মাদকের বিষে কোনো সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীর অকালমৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পঞ্জাবের যুবদের বিজেপির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের মারণ ফাঁদ থেকে বের করে আনার পাশাপাশি তাঁদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, বিগত তিন বছরে পঞ্জাব সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটিও পর্যালোচনা বৈঠক করেনি। এমনকি জলন্ধরে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) নতুন আঞ্চলিক কার্যালয় খোলার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবও রাজ্য সরকার অহেতুক প্রত্যাখ্যান করেছে। রাজ্যে নারী সুরক্ষাও মারাত্মক সংকটে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলা নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এর পাশাপাশি সরকারি বিজ্ঞাপনের বিপুল খরচ, জমি সংক্রান্ত অনিয়ম এবং পুষ্টিকর আহার বিতরণ দুর্নীতির মতো একাধিক অভিযোগে পঞ্জাব সরকারকে তোপ দাগেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের কাছে প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানতে চান, বিজ্ঞাপনে কত টাকা জল করা হয়েছে? ২৫ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি এবং রাজ্যে ১৬টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরির দাবির বাস্তব রূপ কোথায়? পাশাপাশি অবৈধ বালি খাদান থেকে হওয়া বিপুল উপার্জনের হিসাবও চান তিনি।
মাদকের কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে অমিত শাহ পঞ্জাবের মা-বোনেদের আশ্বস্ত করেন, “২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর পঞ্জাবে কোনো যুবককে মাদকদ্রব্য জোগান দেওয়ার মতো একজনও কারবারি বেঁচে থাকবে না। সমস্ত মাদক মাফিয়াদের জেলে পাঠানো হবে। এটি পঞ্জাববাসীর কাছে বিজেপির আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি।”
উল্লেখ্য, পঞ্জাবে বিজেপির এই বিশেষ ‘মাদকমুক্ত পঞ্জাব যাত্রা’ গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছিল। চার দফায় আয়োজিত এই পদযাত্রা পঞ্জাবের সমস্ত ১১৭টি বিধানসভা কেন্দ্র পরিক্রমা করে প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। বুধবার জলন্ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভার মধ্য দিয়েই এই কর্মসূচির মহাসমাপ্তি ঘটে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি