হাইকোর্টে বড় ধাক্কা আইএসএফ-এর, উপনির্বাচনে মিলল না পুরনো ‘খাম’ প্রতীক
কলকাতা, ৩০ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক মুখে কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় আইনি ধাক্কা খেল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো রূপ হস্তক্ষেপ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে নির্বাচনী প্রতীক সম্পর্কিত আইএসএফ-এর
कलकत्ता हाई कोर्ट


কলকাতা, ৩০ সেপ্টেম্বর (হি.স.) :

আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক মুখে কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় আইনি ধাক্কা খেল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো রূপ হস্তক্ষেপ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে নির্বাচনী প্রতীক সম্পর্কিত আইএসএফ-এর আবেদনটি বুধবার খারিজ করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ এই রায় ঘোষণার পর নিশ্চিত হয়ে গেল যে, আসন্ন উপনির্বাচনে আইএসএফ-কে তাদের পছন্দের পুরনো প্রতীকের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বরাদ্দ করা নতুন প্রতীক নিয়েই ভোটের ময়দানে অবতীর্ণ হতে হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের মুখে ভাঙ্গরের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী ও তাঁর দল তাঁদের পরিচিত নির্বাচনী প্রতীক ‘খাম’ হাতছাড়া করেন। ২০২১ ও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফ এই ‘খাম’ প্রতীক নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। তবে এবার নির্বাচন কমিশন তাদের ‘পোশাক’ প্রতীক বরাদ্দ করে এবং তাঁদের পুরনো ‘খাম’ প্রতীকটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ (ডিটিসি)-কে হস্তান্তর করে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পুরনো প্রতীক ফেরতের দাবিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল আইএসএফ।

এর আগে গত সোমবার মামলার শুনানিকালে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যবহৃত প্রতীক কীভাবে হঠাৎ অন্য দলকে দিয়ে দেওয়া হলো, তা নিয়ে কমিশনকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিলেন তিনি। আদালত পর্যবেক্ষণ হিসেবে মন্তব্য করেছিল, পুরনো প্রতীক ফেরত পাওয়া আইএসএফ-এর আইনি অধিকার না হতে পারে, কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোন নিয়মে সেই প্রতীক অন্য দলকে বরাদ্দ করল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন থেকেই যায়। উচ্চ আদালত এ-ও পরিষ্কার জানিয়েছিল যে, কমিশনের এই ধরনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের দায় আদালত নিজের কাঁধে নেবে না।

শুনানিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, যেখানে অন্য দলের ব্যবহৃত প্রতীক জেনেও তাঁরা কেন তা দাবি করেছিলেন। ডিটিসি-র আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য যুক্তি দেন, তাঁরা পছন্দের তিনটি প্রতীকের তালিকা জমা দিয়েছিলেন এবং কমিশনই প্রতীক চূড়ান্ত করেছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জিসনু চৌধুরী সওয়াল করে জানান, একটি ‘মুক্ত প্রতীক’ (ফ্রি সিম্বল) কারও স্থায়ী বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এবং নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুক্ত প্রতীকের ওপর অধিকারের মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে বিচারপতি রাও রায় স্থগিত রেখেছিলেন। বুধবার চূড়ান্ত রায়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন, যেহেতু ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে, তাই এই পর্যায়ে আদালতের হস্তক্ষেপ করা যুক্তিযুক্ত হবে না।

হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ




 

 rajesh pande