
কলকাতা, ৩০ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিশেষ উদ্যোগে মধ্যাহ্নভোজে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হলো হাওড়ার বৈঁতড়ার মধুসূদন পাল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে। মঙ্গলবার উক্ত বিদ্যালয় পরিদর্শনের পরদিন, অর্থাৎ বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশে স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীসহ প্রায় ৮৫০ জনের জন্য মধ্যাহ্নভোজে সুস্বাদু মাছ ও রসগোল্লার বিশেষ উপহার পাঠানো হয়।্া৪১
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি কেবল খুদে পড়ুয়াদের সঙ্গেই মধ্যাহ্নভোজ সারেননি, বরং তাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় অত্যন্ত আন্তরিক ও আবেগঘন আলোচনাও করেন। সেই সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে স্কুলে পৌঁছায় এই বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা। এদিন প্রতিদিনের সাধারণ মিড-ডে মিলের মেনু বদলে শিশুদের পাতে পরিবেশন করা হয় ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত, মাছের কালিয়া এবং শেষ পাতে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রসগোল্লা। মিষ্টি ও মাছের এই রাজকীয় পদ পেয়ে চরম উল্লাসে মেতে ওঠে স্কুলের খুদে শিক্ষার্থীরা।
স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৮টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী সফর শেষ করে রওনা হওয়ার পরই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তন্ময় চক্রবর্তীর কাছে একটি বিশেষ ফোন আসে। সেখানে জানানো হয় যে, বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও পড়ুয়াদের শৃঙ্খলা দেখে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত সন্তুষ্ট। তাই তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগেই পরদিন স্কুলের সমস্ত ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজে বিশেষ ভোজের আয়োজন করা হচ্ছে। খবর পাওয়া মাত্রই রাত থেকেই তৎপরতার সঙ্গে রান্নাবান্নার সমস্ত প্রস্তুতি শুরু করে দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি রাজ্যে মধ্যাহ্নভোজ (মিড-ডে মিল) প্রকল্প এবং তার মেনু পুনর্নির্ধারণ নিয়ে নানা চর্চা ও বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে একটি বেসরকারি সংস্থাকে খাবার সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়ার পর জল্পনা ছড়িয়েছিল যে হয়তো পড়ুয়াদের মেনু থেকে ডিম ও মাছ বাদ পড়তে চলেছে। ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাছ ও রসগোল্লা পাঠানোর ঘটনাকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা হিসেবেই দেখছেন শিক্ষাবিদ ও সাধারণ মানুষ।
এই আনন্দের মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তন্ময় চক্রবর্তী। তিনি জানান, “আজ পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যেন এক উৎসব ও পিকনিকের আমেজ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার আমাদের স্কুলে এসে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে শিশুদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন, আর আজ যেভাবে ৮৫০ জন স্কুল পরিবারের সদস্যের জন্য এই উপহার পাঠালেন, তা আমরা চিরকাল মনে রাখব।” পুরো স্কুল পরিবারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই স্নেহশীল ও সহৃদয় উদ্যোগের জন্য তাঁর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ