
দুর্গাপুর,৩০ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : আগের সরকার কিছুই করে যায়নি। ৪৯ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রি পলিসি ছিল না। ল্যান্ড ব্যাঙ্ক নেই। বিগত সরকারের আমলে অপমানিত হয়ে শিল্পপতিরা রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছে। আমাদের সরকার গুণ্ডাদের সরকার নয়। মানুষের সরকার। বিনিয়োগ নয়, কর্মসংস্থানের ওপর ইনসেন্টিভ ব্যবস্থা হবে। শিল্পের জন্য জমি নিয়ে ফেলে রাখা চলবে না। পাণ্ডবেশ্বরের ইন্ডাস্ট্রি কনক্লেভ এসে থেকে পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে এমনই বার্তা দিলেন শিল্প মন্ত্রী তাপস রায়।
উল্লেখ্য, শিল্প টানতে মঙ্গলবার থেকে পান্ডবেশ্বরে ইন্ডাস্ট্রি কনক্লেভ আয়োজন করেছেন সেখানের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। মঙ্গলবার বিকালে পাণ্ডবেশ্বরের বাঁকোলায় শিল্পপতি ও উদ্যোগপতিদের নিয়ে আয়োজিত কনক্লেভে উদ্বোধন করেন রাজ্যের শিল্প মন্ত্রী তাপস রায়। এছাড়াও ছিলেন মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি, লক্ষনচন্দ্র ঘড়ুই, অরিজিৎ রায়, পার্থ ঘোষ, কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, জেলাশাসক পন্নামবলাম এস প্রমুখ। এদিন দেড়'শ জন শিল্পপতি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মূলত আলোচনা হয় কীভাবে এই সুবিধাগুলিকে কাজে লাগিয়ে লজিস্টিক হাব, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিমেন্ট, স্টিল ডাউনস্ট্রিম ও এমএসএমই শিল্প গড়ে তোলা যায়। খনি বন্ধ হওয়া পরিত্যক্ত জমি, যা শিল্পের জন্য ব্যবহারযোগ্য। উন্নত য়োগাযোগ জাতীয় সড়ক ও রেলপথের সুবিধা রয়েছে। পর্যাপ্ত জল বিদ্যুৎ দক্ষ শ্রমিক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের দাবি ছিল, শুধু কয়লার উপর নির্ভর না করে বিকল্প শিল্প আনতে হবে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ সেই দাবিকেই মান্যতা দিল। এই বৈঠক সফল হলে শুধু শিল্পই নয়, এলাকার হাজারো বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলবে বলেই আশা শিল্পমহলের।
এদিন শিল্প সম্মেলনে বিভিন্ন শিল্পপতিরা হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। এদিন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বিগত সিপিএম ও তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে বলেন, আমি নিজেই স্টার্ট আপ। আগের সরকারে যারা ছিলেন, গত ৪৯ বছরে কিছুই করে যায়নি। গত কয়েক দশকে শিল্পের ক্ষেত্রে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, এখন সেই শূন্যতা পূরণ করতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে। এটা গুন্ডাদের সরকার নয়। মানুষের সরকার।
মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, ল্যান্ড ব্যাঙ্ক নেই। ইন্ডাস্ট্রি পলিসি নেই। দীর্ঘ ৪৯ বছর ধরে রাজ্যে যে সরকারগুলি ক্ষমতায় ছিল, তারা শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও নীতির যে ঘাটতি রেখে গিয়েছে, এখন তারই বোঝা বইতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে। পূর্বতন সরকারগুলির আমলে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বহু বিষয় তৈরি হয়নি। আর তারই জেরে বাংলার মাটি থেকে একের পর এক শিল্পপতি-উদ্যোগপতি মুখ ফিরিয়েছেন। রাজ্যে ৬৬৮৮ শিল্প বন্ধ হয়েছে। অনেকে অপমানিত হয়ে অন্য রাজ্যে চলে গেছে। যেখানেই হাত দেওয়া হচ্ছে, সেখানেই দুর্নীতি। দুর্নীতি অর্থ ছাড়া কেউ কোন কাজ করে নি। তিনি বলেন, এখন রাজ্যে শিল্পবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে শিল্পপতিরা বিনিয়োগ করতে চায়ছে। ইতিমধ্যে ৩৩ টি জমি অনুমোদন করা হয়েছে। আমাদের সরকার বিনিয়োগের ওপর ইন্সেটিভ দেবে না। কর্মসংস্থানের ওপর ইন্সেটিভ ব্যাবস্থা করবে। শিল্প সম্মেলনের মঞ্চ থেকেই শিল্পের জমি নিয়ে কড়া বার্তা দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বছরের পর বছর শিল্পের জন্য জমি নিয়ে তা ফেলে রাখার প্রবণতা আর বরদাস্ত করা হবে না। শিল্পের জন্য যে জমি নেওয়া হয়েছে, তা ফেলে রেখে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি দখলে রেখে দেওয়ার মানসিকতারও বদল দরকার। শিল্পের সম্প্রসারণ বা নতুন প্ল্যান্টের জন্য অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন হলে সরকারকে জানাতে হবে। কিন্তু প্রয়োজন নেই, অথচ জমি নিয়ে বছরের পর বছর ফেলে রাখা এই বিলাসিতা করার অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ নেই।”
কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তাপস রায়। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রক এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা বাংলার উন্নয়ন ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা